শনিবার, ৫ ডিসেম্বর, ২০২০

ক্যালকুলেটিভ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পররাষ্ট্রনীতি ধীরে ধীরে মুসলিম ব্রাদারহুডের ছায়ায় যেসব দেশের সরকার রয়েছে তাদেরকে ঘিরে আবর্তিত হতে যাচ্ছে।

প্যালেস্টাইন সলিডারিটি ডে তে প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতি উচ্চকণ্ঠে প্যালেস্টাইনের পক্ষে থাকার ঘোষণা দিয়ে আমিরাত, বাহরাইনকে মেসেজ দেয়ার চেষ্টা করেছেন তোমরা যেটা করেছো ওটা ঠিক না।

একই সাথে ফিলিস্তিনের পক্ষে যেসব রাষ্ট্র সরব তুরস্ক, কাতার,  গাম্বিয়া তাদের সাথেই আছেন এমন একটা মেসেজও রয়েছে।

আমেরিকার ইন্দোপ্যাসিফিক জোট, চায়নার অর্থনৈতিক প্যাচ,  ভারতের রোহিঙ্গাদের ঘিরে বিশ্বাসঘাতকতা প্রধানমন্ত্রীকে দিন দিন তুর্কী বলয়ে ঠেলে দিচ্ছে।

বাইডেন তুরস্কের উপর স্যাঙ্কশন আরোপ না করলে তুরস্কের সাথে সামরিক চুক্তি হতে পারে বাংলাদেশের। এবং আগামীর মিয়ানমারের সাথে সম্ভাব্য যুদ্ধে প্রধানমন্ত্রী তৈরি থাকারই ইঙ্গিত দিচ্ছেন। শিঘ্রই এরদোয়ানের বাংলাদেশ সফরও দেখা যেতে পারে।

একই সাথে কাতারের শক্তিশালী লবিং ব্যবহার করে ইন্দোপ্যাসিফিক জোটে অংশ না নিয়েই রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধান আমেরিকাকে দিয়ে করানোর পরিকল্পনা রয়েছে।

ইতোমধ্যেই বাংলাদেশের সাথে তুরস্কের বাণিজ্যিক সম্পর্ক বৃদ্ধি পেয়েছে। কয়েকটি চুক্তিও হয়েছে। লেবাননের ঘটনার পর তুরস্কের বাংলাদেশি জাহাজ বিনির্মাণে প্রধানমন্ত্রী কৃতজ্ঞতাও প্রকাশ করেছেন।

বাংলাদেশের আগামীর পররাষ্ট্রনীতি হবে ভারসাম্যমূলক। চায়না, ভারত ও আমেরিকাকে এড়িয়ে তুরস্ক কাতারের সাথে বেশি দহরমমহরম দেখা যেতে পারে।

নাগার্নো কারাবাখ যুদ্ধে তুরস্ক প্রমাণ করেছে তারা যার পক্ষে থাকে, সেখানে গোপনীয়তা বজায় রাখে না। সবকিছু দিয়ে তাকে সাপোর্ট দেয়। এবং রোহিঙ্গাদের জন্য হলেও প্রধানমন্ত্রীর তুরস্ককে লাগবে। আবার সাউথ এশিয়াতে তুর্কী প্রভাব বাড়াতেও বাংলাদেশকে তুরস্কের চাই।

তুরস্কের মধ্যস্থতায় আগামীতে পাকিস্তান বাংলাদেশের উষ্ণ সম্পর্ক দেখা যেতে পারে। কারন বাংলাদেশের এখন রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধানে জোট লাগবে। সেখানে পাকিস্তানও থাকবে। ইমরান খান ইতোমধ্যে ইঙ্গিতও দিয়েছেন। ফলে মুক্তিযুদ্ধে হত্যাকাণ্ডের জন্য পাকিস্তান দুঃখপ্রকাশও করতে পারে।

রোহিঙ্গা প্রশ্নে জাতিসংঘে বারবার চীন, রাশিয়ার বিপক্ষ ভোট,ভারতের চুপ থাকা, এসব কিছুই নিরাশ করে প্রধানমন্ত্রীকে নতুন উদীয়মান শক্তির কাছাকাছি নিয়ে যাচ্ছে। আবার চীনের মত টাকা দিয়ে সাহায্য করার মত কাতারও রয়েছে।

সবকিছু ঠিক থাকলে আমরা সামনে একটি স্মার্ট পররাষ্ট্রনীতি দেখতে পাচ্ছি। যেখানে সব দেশের সাথেই ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক থাকবে।

ভাস্কর্য নিয়ে যেসব হুজুররা চিল্লাফাল্লা করতেছেন, তারা থামতে পারেন, কারন প্রধানমন্ত্রীর আগামীর পদক্ষেপ আপনাদের পক্ষেই যাবে।

আর যারা ভাস্কর্য নিয়ে হুজুরদের তুলোধোনা করছেন, তারাও থামুন। কারন আপনাদের সামনে খারাপ সময় অপেক্ষা করছে। 

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে এখন খুবই ক্যালকুলেটিভ দেখা যাচ্ছে। প্রতিটা কথাও বলছেন মেপে মেপে। হেফাজত, জামাত, কওমী খুব বেশি বাড়াবাড়ি না করলে তাদের দমানোর ইচ্ছা নাই এখনো।

যেহেতু বিরোধি জোট বলে কিছু নাই, আওয়ামীলীগের বিপক্ষেও টিকার মতো কেউ নাই, তাই অভ্যন্তরীণ গোলযোগ তৈরি না করে প্রধানমন্ত্রীকে আন্তর্জাতিকভাবে খেলার সুযোগ দিন।

কারন আগামীর চার বছরের উপরই বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ অনেকাংশে নির্ভর করছে।
Credit:Tansen Rose

শেয়ার করুন

0 Please Share a Your Opinion.: